যুক্তরাজ্যে টিউলিপকে জিজ্ঞাসাবাদ, শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু

২০১৩ সালে ক্রেমলিন সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে টিউলিপ সিদ্দিক

ছবির উৎস, AP

ছবির ক্যাপশান, ২০১৩ সালে ক্রেমলিন সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে টিউলিপ সিদ্দিক
Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিককে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিকে, শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন– এমন অভিযোগের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।

বলা হচ্ছে, এই অর্থ মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল কাজ শুরু করছে।

অন্যদিকে, ৪০০ কোটি পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

মিজ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন, যেখানে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছিল।

মূলত টিউলিপ সিদ্দিকের খালা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন যে ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে তারই আওতায় পড়েছেন মিজ সিদ্দিক।

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ শুরু করা হলেও এই প্রকল্পকে ঘিরে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

টিউলিপ সিদ্দিক

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, টিউলিপ সিদ্দিক

টিউলিপ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

টিউলিপ সিদ্দিকের চাচা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন তিনি, তার স্ত্রী এবং মেয়ে "প্রচ্ছায়া লিমিটেড" নামে একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ৯০ কোটি ডলার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে পাচার করেছে এবং ব্রিটেনে জুমানা ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড প্রপার্টিজ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি খুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাজ্য বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করছে। যুক্তরাজ্য এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংবাদপত্রের বরাতে দুদক বলছে, যে লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে দেখা করার পর থেকে মস্কোর সাথে বিচক্ষণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

যুক্তরাজ্যে টিউলিপকে জিজ্ঞাসাবাদ

বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৪০০ কোটি পাউন্ড আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ টিউলিপ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রোপ্রাইটি অ্যান্ড এথিকস টিমের কর্মকর্তা রোববার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে দ্য টেলিগ্রাফ, টাইমস, সানডে টাইমসসগ যুক্তরাজ্যের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে।

টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটেনের লেবার মন্ত্রিসভার সদস্য, তিনি ইকনোমিক সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার কাজ যুক্তরাজ্যের অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেওয়া।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও অন্যতম উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও অন্যতম উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

সজীব ওয়াজেদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও অন্যতম উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে ৩০ কোটি ডলার বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন মার্কিন ব্যাংকে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়ার কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

হংকং এবং কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক সেইসাথে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ, তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ৮০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে নতুন তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ নয়টি প্রকল্প থেকে এসব দুর্নীতি করা হয়েছে।

বর্তমানে তদন্ত দল নির্বাচন কমিশন এবং পাসপোর্ট অধিদফতর থেকে সন্দেহভাজনদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে। সেইসাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত নথি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এ বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।