অনশন ভাঙবেন না সোনাম ওয়াংচুক, আন্দোলন চালিয়ে যাবে ককরোচ জনতা পার্টি

ছবির উৎস, Sajjad HUSSAIN / AFP via Getty Images
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান অনশন ভাঙবেন না শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তার এই বার্তার পরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও।
বুধবার বিকেলে সোনাম ওয়াংচুক একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের পরিবারকে সহায়তা ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার বিষয়টি তিনি 'বিবেচনা করে দেখবেন'।
কিন্তু এতে সোনাম ওয়াংচুকের অনশন শেষ করা বা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থামানোর কোনো ইঙ্গিত নেই।
বরং সোমবার 'সংসদ অভিযান'-এর দুদিন পরে বুধবার বিকেলেও যন্তর মন্তরে হাজির রয়েছেন শত শত আন্দোলনকারী; মাঝে মাঝেই উঠছে স্লোগান; প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। দিল্লির গরম, আর্দ্র আবহাওয়া ও মাঝেমধ্যেই কয়েক পশলা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মঞ্চের সামনে জমায়েত রয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা।
তাদের জন্য খাবার আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিভিন্ন 'ফুড ডেলিভারি অ্যাপ' এর মাধ্যমে পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন বেনামী ব্যক্তিরা, দেশের নানা রাজ্য থেকে। খাবার নিয়ে আসছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।
অন্যদিকে এই বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য একাধিক পন্থা নিচ্ছে সরকারও। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্বে আসা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ কোম্পানি সদস্যকে বিমানে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে দিল্লিতে। বুধবারও বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লি মেট্রোর কয়েকটি স্টেশন।
কিন্তু মঙ্গলবার ২১শে জুলাই রাত পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রতিবাদের প্রতি দৃষ্টিকোণ যে খুব একটা বদলায়নি, তা স্পষ্ট হয় রাত ১০টা ৫১ মিনিটে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের করা একটি এক্স পোস্ট থেকে।
সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট' এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং তার জেরে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার দায় নিয়ে এই মি. প্রধানেরই পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সামাজিক মাধ্যম এক্স এ শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, "সংসদের অধিবেশনে নিট নিয়ে আলোচনা করতে এবং আমাদের তরুণদের প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগের সুরাহা করতে আমাদের সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য ভারতের শিক্ষার্থীরা। বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে তারা চায় নিশ্চয়তা, স্লোগানের পরিবর্তে সমাধান এবং বিঘ্ন সৃষ্টির পরিবর্তে দায়িত্বশীলতা।"
অর্থাৎ দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির এই বিক্ষোভকে একটি রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বিরোধিতা রূপেই সরকার মূল্যায়ন করছে।
এমনকি সিনিয়র বিজেপি নেতা ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও বলেছেন যে ছাত্রদের 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে' হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্যের সমর্থন করেছেন দিল্লির এমপি বাঁসুরি স্বরাজও। এছাড়াও ককরোচ জনতা পার্টির উপর মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ভারতের শাসক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালয়েন্স বা এনডিএর একটি মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপকেই প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, "আমরা ভারতের যুবসমাজের বিশ্বাস অর্জন করব"।

ছবির উৎস, Vipin Kumar/Hindustan Times via Getty Images
অনশন ভাঙছেন না সোনাম ওয়াংচুক
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সাক্ষাৎ করার জন্য ধন্যবাদ জানালেও সোনাম ওয়াংচুক স্পষ্ট করেছেন যে, এখনই তিনি তার অনশন ভাঙবেন না।
বুধবারই ওয়াংচুককে অনশন ভঙ্গ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সোনাম। সোনাম ওয়াংচুকের বিবৃতি আসার আগেই তিনি আবেদন করেন, "আপনি দেশের যুবসমাজের জন্য যা করেছেন তাকে অনুপ্রেরণা করেই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব, কিন্তু আপনি আর নিজের শরীর স্বাস্থ্য নষ্ট করবেন না।"
যদিও সোনাম ওয়াংচুক তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এখনই অনশন ভঙ্গ করছেন না।
সোমবারের বিক্ষোভ দেখানো ছাত্র জনতারা যাতে কোনো রকম আইনি সমস্যার মুখোমুখি না হন, সেই অনুরোধ তিনি রেখেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৬৫ জন সংসদ সদস্য তাকে অনশন ভঙ্গের অনুরোধ করেছেন এবং বলেছেন যে দেশের স্বার্থে তার জীবিত থাকা প্রয়োজন।
এছাড়াও তিনি আরেকটি যে নতুন দাবি রেখেছেন; সেটি হলো, শুধু তার কথায় নয়, দেশের লাখো ছাত্র-যুবর কথা মতো সরকার কাজ করলেই তিনি তার অনশন ভঙ্গ করবেন।
তিনি বলেন, "দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে যারা সম্মতি জানায় তাদের উপর নয়, বরং প্রতিবাদী ছাত্র যুবদের সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে- সেই সিদ্ধান্ত যারা নেন তাদের উপর।"
এই বিবৃতির পরে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন একইভাবে চলবে।

ছবির উৎস, Arvind Yadav/Hindustan Times via Getty Images
আন্দোলন রুখতে আসছে সশস্ত্র বাহিনী, বন্ধ মেট্রো স্টেশন
একদিকে যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মি. ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেছেন, তার মধ্যেও আন্দোলন মোকাবিলা করতে যে সরকার কোনো ফাঁক রাখছে না তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে কলকাতা থেকে ২০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী বা সিআরপিএফকে এয়ারলিফ্ট করে দিল্লি নিয়ে আসার সিদ্ধান্তে।
এই বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সিজেপির নেতৃত্বে যুব সমাজের বিক্ষোভ ও তাদের সঙ্গ দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর বিক্ষোভ - এই দুই সামাল দিতেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০ কোম্পানি সিআরপিএফ বাহিনীকে দিল্লিতে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
অন্যদিকে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলনের জেরের লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, প্যাটেল চক ও রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রেখেছে। এই মেট্রো স্টেশনগুলোয় যাত্রীরা প্রবেশ বা বাইরে যেতে পারবেন না।
তবে এই স্টেশনগুলোর মধ্যে যেগুলো ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন, অর্থাৎ দুটি আলাদা লাইনের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে, সেখানে মানুষ নেমে লাইন বদল করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

ছবির উৎস, Sajjad HUSSAIN / AFP via Getty Images
বিক্ষোভে 'পুলিশি বর্বরতার' অভিযোগ
গত দুই দিন ধরেই সিজেপির এক্স হ্যান্ডেলে এমন একাধিক ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, যা দেখিয়ে দাবি করা হয়েছে যে পুলিশ বিভিন্নভাবে এক্তিয়ার বহির্ভূত হিংসাত্মক পথ অবলম্বন করেছে এবং নারী আন্দোলনকারীদের হেনস্থা করেছে।
তবে এই ঘটনা সংক্রান্ত জরুরি পিটিশন সুপ্রিম কোর্ট যে শুনতে নারাজ, তা বুধবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
পিটিশনারদের আইনজীবিকে তিনি বলেন, "আপনি আমাদের ও নিজের সময় নষ্ট করবেন না।"
যখন ওই আইনজীবী ফের প্রধান বিচারপতিকে বলেন যে পুলিশি বর্বরতার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে, তখন প্রধান বিচারপতি তাকে থামিয়ে বলেন, "আমরা ভিডিও দেখতে আগ্রহী নই, আমাদের সেই সময় নেই।"
এর আগে মঙ্গলবারও এই সংক্রান্ত এক আপিল দাখিল হয়েছিল দিল্লি হাইকোর্টে। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টও বলেছিল যে, "এই ঘটনায় আদালতকে টানা উচিত না"।
অন্যদিকে পুলিশি বর্বরতার একাধিক অভিযোগ খারিজ করে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্ট করেছে দিল্লি পুলিশ।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস, Sansad TV
'সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত সরকার'
সোমবার ভারতের সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকেই একাধিক বিরোধী দল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনা চাইছিলেন।
বুধবার সংসদের নিম্ন কক্ষ লোকসভায় এই বিষয় নিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হলে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, "গত তিন দিন ধরেই আমরা বলে আসছি যে, সরকার নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রথম দিন থেকেই আমরা বলে আসছি যে, আলোচনা হতে হবে নিয়ম মেনে। আলোচনা কখন হবে, কতক্ষণ ধরে চলবে এবং কোন নিয়মের অধীনে তা অনুষ্ঠিত হবে - সেসব বিষয়ে সব দলের 'ফ্লোর লিডার' বা দলনেতাদের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।"
সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, "সরকার 'নিট' প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের স্বার্থে একটি গঠনমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন, সরকার সেটাই চায়।"
তবে কংগ্রেস এমপি কেসি বেণুগোপাল বলেন, "গত তিন দিন ধরে আমরা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে মুলতবি প্রস্তাব পেশ করে আসছি। কিন্তু সরকার আমাদের দাবি মানছে না। গতকাল জিতেন্দ্র সিং বলেছিলেন যে সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু ঠিক কোন বিধির অধীনে আলোচনা হবে? এই বিষয়ে সরকার কেন এমন উদাসীন? একটি সুশৃঙ্খল বিতর্কে যেতে তাদের কী বাধা দিচ্ছে?"

ছবির উৎস, Sajjad HUSSAIN / AFP via Getty Images
কংগ্রেসের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা তিনটি দাবি নিয়ে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস (নিয়ে আলোচনা), ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার। পুলিশ বা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এমন কঠোর মনোভাবই আমরা প্রত্যাশা করি, তবে তা মোকাবিলা করার ক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য লড়াই করব।"
অন্যদিকে উচ্চ কক্ষ রাজ্যসভার কংগ্রেস এমপি পবন খেরা বলেন, "রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে আলোচনার জন্য ২৬৭ নম্বর বিধির আওতায় একটি নোটিশ আগেই দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত সংসদের উভয় কক্ষেই এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া। কিন্তু সরকার কোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত নয়।"
সংসদ কক্ষ থেকে বাইরে এসে কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের বলেন, "বিরোধী দল যা-ই বলতে চাক না কেন, আলোচনার সময় তারা তাদের মতামত তুলে ধরতে পারে। আলোচনা হলে প্রত্যেক সদস্যের নিজের বক্তব্য প্রকাশের অধিকার থাকে, কিন্তু আলোচনা বন্ধ করার জন্য যদি শর্ত চাপানো হয়, তবে তার অর্থ হলো আপনারা আলোচনা চান না।"
সরকারের ভূমিকা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, "সরকার কোনো বিষয় থেকেই পিছু হঠে না, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় জনগণের জন্য আমরা যেসব কাজ করি, সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করা আমাদের দায়িত্ব।"

ছবির উৎস, ANI
সিজেপির বিক্ষোভ ও রাজনীতির ছোয়া
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে সিজেপির এই বিক্ষোভ যে অরাজনৈতিক তা বার বার বলেছেন এই দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তবে এই ধর্ণা মঞ্চে তিনি বহু বিরোধী দলের সদস্যদের স্বাগতও জানিয়েছেন। ফলে শাসকদলের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এই আন্দোলন।
সোনাম ওয়াংচুকের অনশন এই মঞ্চে চলাকালীন সিজেপির বিক্ষোভে এসেছিলেন আপ-এর নেত্রী অতিশী, সিপিআইএম-এর জেনারেল সেক্রেটারি এমএ বেবি, এছাড়াও ছিলেন বৃন্দা কারাত, সৃজন ভট্টাচার্যরা। তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্রও দেখা করেছেন অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে।
সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল ইয়াদভ, আরজেডি থেকে মনোজ ঝা ও মহারাষ্ট্রের বিরোধী দল শিবসেনা (উদ্ধবপন্থি)-র নেতা উদ্ধব ঠাকরেও এই বিক্ষোভের এই দলের ধর্ণা কর্মসূচিতে এসেছিলেন এবং তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।
অবশ্য যে রাজনৈতিক দলের সদস্যরা এই প্রতিবাদ মঞ্চে এসেছিলেন, তাদের সবাই একই সুরে জানিয়েছিলেন যে তারা কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং ভারতের সাধারণ নাগরিক হিসেবেই এসেছেন।
রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের নেতানেত্রীরা এই ধর্ণামঞ্চে উপস্থিত না থাকলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি তুলে সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তারা।
এই দাবিতে ২১শে জুলাই মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। কিন্তু রাত্রে তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়।

ছবির উৎস, Sajjad HUSSAIN / AFP via Getty Images
বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে দিল্লির বিজেপি এমপি বাঁসুরি স্বরাজ বলেন, "সিজেপি এবং অন্যান্য পক্ষের শুরু করা আন্দোলনটিকে ছাত্র আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল। এই আন্দোলনের প্রতি সরকারের মনোভাব ছিল সংবেদনশীল। দিল্লি পুলিশ তাকে (অভিজিৎ দীপকে) বিমানবন্দর চত্বরেই অনুমতি দিয়েছিল, সেই অনুমতির মেয়াদ ছিল বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সেখানেই থেকে যান। তারা যন্তর মন্তরে ২১ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। দিল্লি পুলিশ তবুও তাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকার নিজের তরফ থেকে কোনো গাফিলতি হতে দেয়নি এবং যতক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল, ততক্ষণ তা চলতে দিয়েছে।"
"২০শে জুলাই তারা 'সংসদ চলো' কর্মসূচির ডাক দেন। গণতন্ত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব রয়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘেরাও করা বেআইনি ও অসাংবিধানিক। যখন কোনো অনুমতি ছাড়াই সংসদ ভবন ঘেরাও করা হলো, তখনও দিল্লি পুলিশ সংযম প্রদর্শন করেছিল।"
সংসদ অভিযানের দিন সিজেপির মুখপাত্র জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করার পরে জানান যে কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে আন্দোলন চলবে।
মিজ. স্বরাজ বলেন, "তারা যখন জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করলেন, তখন তারা কোনো লিখিত দাবি নিয়ে আসেননি। মাননীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাই তাদের লিখিত দাবি জমা দেওয়ার জন্য সময় দেন। কিন্তু তারা মিথ্যা ছড়ান যে তাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন মিথ্যা ছড়ানোর প্রচেষ্টা হয়েছে।"

ছবির উৎস, Avijit Ghosh/NurPhoto via Getty Images
কী মনে করছেন আন্দোলন পর্যবেক্ষকরা
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও লেখক বন্যা বিদেহী ভার্গব 'সংসদ চলো' আন্দোলনের দিন এক্স-এ একটি পোস্ট করে লেখেন, "এই সরকারের আমলে ভারত যেভাবে গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়েছে, সেই দেশে অনেকেই আর ফিরে আসতে চান না।"
তার মতে, বিদেশে বসবাসরত অনেক ভারতীয়ই দেশের বর্তমান অবস্থা দেশে রাগান্বিত ও আশাহত বোধ করেন; অনেকে ভেতর ভেতরে গুমরে মরেন, কোনো কথাই বলতে চান না।
মিজ. ভার্গব লেখেন, "সেই শাসনব্যবস্থা ও সেই নীরবতা প্রায়ই আমাকে ভাবাত, আমি কি পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছি যে আমি (ভারতে) ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম? কিন্তু আজ দীর্ঘদিন ধরে স্তব্ধ হয়ে থাকা সেই গণতান্ত্রিক চেতনাকে আবার প্রাণ ফিরে পেতে দেখে আমি যেন নিজের পূর্ণতা অনুভব করছি। তা হয়তো ক্ষণিকের জন্যই।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শাসকদল বিজেপির কঠোর সমালোচক বলে পরিচিত যোগেন্দ্র ইয়াদভ ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে নিজের লেখা কলামে বন্যা বিদেহী ভার্গবের এই আত্মোপলব্ধির কথা উল্লেখ করেছেন।
যোগেন্দ্র ইয়াদভের মতে, "যারা বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন তারা বেশিরভাগই 'ডায়রেক্ট সাফারার' বা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত নন। কিন্তু তারা 'পোটেনশিয়াল সাফারার' যারা জানেন কাল তারা নিজেরাও এর শিকার হতে পারেন। এবং তারা বুঝে গিয়েছেন যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।"








