দিল্লিতে বিক্ষোভ: মমতা ব্যানার্জী, অভিজিৎ দীপকে সহ আটক হাজারেরও বেশি

    • Author, ময়ূরী সোম
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা
    • Author, প্রত্যুষ রায়
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি
  • Published
  • পড়ার সময়: ৫ মিনিট

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত হাজার খানেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনো মাত্রই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে। আটক হয়েছেন বামপন্থী ছাত্র নেত্রী নেহা বোরা ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও।

সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করেছে পুলিশ। এর আগে সকালেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকেই আটক করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিক্ষোভের ঘোষিত এলাকা হিসাবে যন্তর মন্তরকে একরকম দুর্গ বানিয়ে ফেলা হলেও দুপুরে হঠাই বামপন্থী ছাত্র-নেত্রী নেহা বোরা রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।

বিবিসি সংবাদদাতা প্রত্যুষ রায় দিল্লি থেকে জানাচ্ছেন, "মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। যন্তর মন্তরে যাওয়ার সমস্ত রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। অনেক রাস্তায় কাঁটাও বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কেউ স্লোগান তুললেই তাকে আটক করে বাসে তুলে দেওয়া হচ্ছে। যন্তর মন্তর থেকে চার কিলোমিটার দূরেও বহু গাড়ি আটকে দেওয়া হচ্ছে। শুধু আন্দোলনকারীরাই নন, অনেক জায়গায় সাংবাদিকদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মধ্য দিল্লির সমস্ত দোকানপাট বন্ধ।"

দেখে নেওয়া যাক শনিবার দুপুর পর্যন্ত দিল্লিতে কী কী ঘটেছে:

দুপুর ২.১৫: দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে তাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। পুলিশের গাড়িতে বসে থাকা মিজ. ব্যানার্জীর একটি ছবিও তারা শেয়ার করেছে সামাজিক মাধ্যমে।

দুপুর ২টা: বাম ছাত্র নেত্রী নেহা বোরা, সিপিআইএমএল লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সামাজিক কর্মকর্তা যোগেন্দ্র ইয়াদভ সহ একাধিক নেতা আটক। বিবিসি সংবাদদাতা দিলনাওয়াজ পাশা জানাচ্ছেন এদের সফদরজং ফ্লাইওভারের কাছে আটক করা হয়।

দুপুর ১.৩০টা: বাম ছাত্র সংগঠন আইসার সভানেত্রী নেহা বোরা-সহ অনেক ছাত্র-যুব আন্দোলনকারী ইতোমধ্যে দিল্লি হাট অঞ্চলে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। বিক্ষিপ্ত ভাবে দিল্লিতে বিজেপি দফতরের বাইরেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

দুপুর ১.১০: অনেক জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়েছে।

দুপুর ১টা: সিজেপির এক্স একাউন্টে অভিজিৎ দীপকের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, "আপনারা এই ভিডিও দেখছেন মানে আমি, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা তিনজনেই গ্রেফতার হয়েছি। এবার এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন আজিঙ্ক্যা শিন্ডে।"

সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানোর পর তাদের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। সেখানে ৩০-৪৫ মিনিট রাখার পর ফের তাদের জিপে তুলে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা তাদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ তার। পিনারাই বিজয়নের মতো একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষের কী পরিস্থিতি হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মি. ব্রিটাস।

দুপুর ১২:৩৫: বিবিসি সংবাদদাতা প্রত্যুষ রায় জানাচ্ছেন, দিল্লির বিভিন্ন জায়গা থেকে সাংবাদিকদেরও একে একে আটক করতে শুরু করেছে পুলিশ। জনপথ এলাকার রিগাল হোটেলের কাছে আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের কাছে বাংলা সাহিব গুরুদ্বারে আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দুপুর ১২:৩০: ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির একাধিক সদস্যের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।

সকাল ১১:৩০: বামপন্থী যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, তাদের একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।

সকাল ১১:২৭: বিক্ষোভ শুরুর আগেই সিপিআই(এম)-এর একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে দলের তরফে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, কেরালার বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন, বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন এবং পি কে শ্রীমতী।

সকাল ১০:৫৩: ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা, অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস, আজ সকালে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছন। তাদের দাবি, বিমান দিল্লিতে অবতরণের পরই দিল্লি পুলিশ বিমানের ভিতর থেকে তাদের আটক করে।

বিমান থেকে সিজেপির সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দীপকে-কে বলতে শোনা যায়, "দিল্লি পুলিশের প্রচুর কর্মকর্তা বিমানে ঢুকছেন। … আমরা কেবল একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে চেয়েছিলাম। আর ওরা আমাদের বিমান থেকে এমনভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, যেন আমরা অপরাধী।"

সকাল ১০:৩০: ককরোচ জনতা পার্টির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, "পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে আমাকে পায়নি। রাস্তায় আমার গাড়ির ভিতর থেকে বেআইনিভাবে আমাকে আটক করা হয়েছে। আমার গাড়ির চারপাশে প্রায় ২৫ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজনের মতো মহিলা পুলিশকর্মীও আছেন।"

সকাল ৯:৫০: ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রাতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদী সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ধ্রুব রাঠি চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন। বেঙ্গালুরুতে আটই অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।