আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ভারতে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক কেন?
- Author, শুভাঙ্গী মিশ্রা
- Role, বিবিসি সংবাদদাতা
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
ভারতের সংসদ সদস্যদের কাছে তিনটি খসড়া বিল আসে মঙ্গলবার এবং সেই বিষয়ে আলোচনার জন্য লোকসভায় বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হয়। ১৬ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে বসবে সেই অধিবেশন। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারতের লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০টি করার প্রস্তাব।
যে তিনটি বিল নিয়ে সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন বসবে সেই তিনটি হলো,
- কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল ২০২৬
- সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী বিল ২০২৬)
- সীমানা নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) সংশোধনী বিল ২০২৬
তিনটি বিলে দুটির মধ্যে যে প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো ভারতে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও ভারতের ভবিষ্যত রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি ঠিক করতে পারে।
সেই দুটি হলো, লোকসভার আসনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভায় নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ।
সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি তৈরি করা হয়েছে ২০২৩ সালে পাশ হওয়া 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম'-এর ওপর ভিত্তি করে। এই আইনটি নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা প্রবর্তন করলেও, এর বাস্তবায়নকে ভবিষ্যতের আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসনসংখ্যা পুনর্নির্ধারিত হওয়ার পরেই নিশ্চিত করা হবে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ।
২০২৩ সালে নারী শক্তি বন্দন বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়ে গেলেও অনেকে এই আশঙ্কা করেছিলেন যে এই আইনটি বাস্তবায়িত হতে পারে। তিনটি বিলই ১৬ থেকে ১৮ই এপ্রিলের বিশেষ অধিবেশনে পাশ হয়ে গেলে আশা করা হচ্ছে ২০২৯ সালের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে এর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
তবে সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় এই বিলগুলো।
সবথেকে বেশি কথা হচ্ছে ডিলিমিটেশন অর্থাৎ লোকসভা আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিলটি নিয়ে।
অভিযোগ উঠেছে, বিজেপিকে অতিরিক্ত সুবিধা পাইয়ে দিতে পারে এই সংশোধনী।
কেন হয় ডিলিমিটেশন?
'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬'-এ প্রস্তাব করা হয়েছে যে, নিম্নকক্ষে সর্বোচ্চ ৮৫০টি আসন থাকবে, যার মধ্যে ৮১৫টি আসন হবে বিভিন্ন রাজ্যের এবং ৩৫টি আসন হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর।
বর্তমানে লোকসভায় সদস্য সংখ্যা ৫৪৩ জন এবং সংবিধান অনুযায়ী এর সর্বোচ্চ সদস্যসীমা ৫৫০-এ নির্ধারিত রয়েছে।
এই বিলে সংবিধানের ৮১তম অনুচ্ছেদ সংশোধনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে লোকসভার আসন সংখ্যাকে স্থির বা 'ফ্রিজ' করে রাখার সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হবে।
৮১তম অনুচ্ছেদের বিধানগুলোর কারণেই ১৯৭৬ সাল থেকে লোকসভার আয়তন বা সদস্য সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, লোকসভার বর্তমান সদস্যসংখ্যার ভিত্তি যদি ১৯৭১ সালের আদমশুমারি হয়ে থাকে, তবে সম্প্রসারিত নিম্নকক্ষের ক্ষেত্রে নির্দেশক বা ভিত্তি হিসেবে কোন আদমশুমারির সালটি বিবেচিত হবে?
উত্তর নিহিত রয়েছে 'সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল ২০২৬'-এর মধ্যে, যা বিশেষ অধিবেশনে পেশ করা হবে।
এই বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, সীমানা পুনর্নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াটি 'সর্বশেষ প্রকাশিত আদমশুমারির' ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হবে।
এখন পর্যন্ত সেই সর্বশেষ আদমশুমারিটি হলো ২০১১ সালে পরিচালিত আদমশুমারি।
ঠিক এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
এখন পর্যন্ত একটি রাজ্যের নির্ধারিত আসনসংখ্যা নির্ধারিত হয় ওই রাজ্যের জনসংখ্যার ভিত্তিতে। অর্থাৎ গোটা ভারতে প্রতিটি লোকসভা সিট সমান সংখ্যক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন
দক্ষিণী রাজ্যগুলোর আপত্তি কেন?
গত কয়েক বছরে ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। বিশেষ করে জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ, হিমাচল প্রদেশ ও দক্ষিণের রাজ্যগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও সব দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলোর জন্মহার রয়েছে 'রিপ্লেসমেন্ট রেট' এর নিচে। অর্থাৎ জন্মহারের ভিত্তিতে এই রাজ্যগুলোর জনসংখ্যা কমার কথা।
অন্যদিকে, হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোয় জন্মহার রিপ্লেসমেন্ট রেটের উপরে। ফলে বেশি আসন পাবে উত্তর প্রদেশ, বিহারের মতো রাজ্যগুলো। এই রাজ্যগুলো থেকেই বিজেপির অধিকাংশ সিট আসে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বণ্টনের সেই একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়, তবে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হয়ে পড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অদিতি ফড়নিস বিবিসি-কে বলেন, "দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে সাধারণত প্রগতিশীল হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা সচেতনভাবে পরিবার পরিকল্পনার নীতি অনুসরণ করেছে এবং সজ্ঞানে ছোট পরিবারের ধারণাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে। দক্ষিণের রাজ্যগুলো এখন অনুভব করবে যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে তাদের সেই সচেতন প্রচেষ্টাই উল্টো তাদের জন্য একটি অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
অন্যদিকে বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার বারবার আশ্বাস দিয়েছে যে, সংসদের গঠনে রাজ্যগুলোর বর্তমানে যে আনুপাতিক অংশীদারিত্ব রয়েছে, তাতে কোনো পরিবর্তন বা ব্যাঘাত ঘটানো হবে না।
কিন্তু নির্বাচনী পরিসংখ্যানবিদ ও রাজনৈতিক কর্মী যোগেন্দ্র যাদব মঙ্গলবার এক টুইটে জানান, এই সংক্রান্ত তিনটি বিলের কোনোটিতেই এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার দক্ষিণের রাজ্যগুলোর নেতারাও এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এক ভিডিও বার্তায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন বলেন, রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই ডিলিমিটেশনের বিষয়টি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাটি "গণতন্ত্রের ওপর একটি আঘাত"।
তিনি আরও বলেন, "যখন কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে, ছোট পরিবার গঠন করতে এবং পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহ্বান জানিয়েছিল, তখন আমরা (তামিলনাড়ু) তা মেনে নিয়েছিলাম। এখন প্রশ্ন হলো—আমাদের যা করতে বলা হয়েছিল, আমরা যদি তা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পালন করে থাকি, তবে এটাই কি তার শাস্তি?"
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি তার অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির জোটসঙ্গী চন্দ্রবাবু নাইডুকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে তিনি আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত 'আনুপাতিক মডেল' প্রতিহত করার লক্ষ্যে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর সঙ্গে একটি সমবেত প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার জন্য চন্দ্রবাবুকে আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত ৮৫০টি আসনকে রাজ্যগুলোর মধ্যে কীভাবে সুনির্দিষ্টভাবে পুনর্বিন্যাস করা হবে, তার সঠিক রূপরেখা বা কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়।
বিলে বলা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত একটি 'ডিলিমিটেশন কমিশন' এই বিষয়টি চূড়ান্ত করবে; এই কমিশনের সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর নির্বাচন কমিশনাররা।
উল্লেখ্য, এই বিলে আরও একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে কোন আদমশুমারিকে গ্রহণ করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংসদের 'সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা'র ওপর ন্যস্ত করা হবে।
বর্তমানে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। যার অর্থ হলো, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা আবশ্যক।
ডিলিমিটেশনের বিরোধিতায় তৃণমূল কংগ্রেস
দক্ষিণী রাজ্যগুলোর মতো পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও এই বিলটির সমালোচনা করেছে।
১৪ই এপ্রিল একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ডেরেক ও'ব্রায়ান।
ওই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মি. ও'ব্রায়ান বলেন, "ডিলিমিটেশন হলো একটি চতুর এজেন্ডা। নারীরা তো কেবলই তাদের অজুহাত"।
তিনি আরও যোগ করেন যে, "ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নারীদের বিষয়ে কখনোই বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেনি"।
৩৩ শতাংশ নারী-সংরক্ষণ
নারীবাদী সংগঠনগুলো এবং নারী সংসদ সদস্যরা দশকের পর দশক ধরে নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে সংসদের নিম্নকক্ষে ৭৮ জন এবং উচ্চকক্ষে ৪২ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন; যা যথাক্রমে কক্ষ দুটির মোট সদস্যসংখ্যার মাত্র ১৪ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ।
'সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চ'-এর একটি প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, এই হার বিশ্বব্যাপী প্রতিনিধিত্বের গড় হার (২৭.২ শতাংশ)-এর চেয়ে অনেক কম।
২০২৩ সালে ভারত লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোয় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করে একটি আইন পাস করে; তবে সেই আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল কেবল পরবর্তী আদমশুমারি এবং তার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই।
মঙ্গলবার প্রস্তাবিত 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬'-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূর্বনির্ধারিত শর্তটি আমাদের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নারীদের কার্যকর ও নিবেদিত অংশগ্রহণকে 'বিলম্বিত করবে'।
বিলটিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে, আসন পুনর্বিন্যাস বা সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য নির্ধারিত কোটাটি "সর্বশেষ প্রকাশিত আদমশুমারির জনসংখ্যার তথ্যের ভিত্তিতে" কার্যকর করা হোক, যা আবারও সেই ২০১১ সালের আদমশুমারিকেই নির্দেশ করে।
প্রতিটি ডিলিমিটেশনের পরে সংরক্ষিত নির্বাচনী এলাকাগুলো পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করা হবে। এই আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থাটি ১৫ বছরের জন্য বৈধ থাকবে এবং সংসদ চাইলে এর মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারবে।
এই বিধানের চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে শাসক-বিরোধী সবার মধ্যে একমত পোষণ করতে দেখা গেলেও, বিরোধী দলের নেতারা বিলটি উত্থাপনের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ বিলটি এমন এক সময়ে আনা হয়েছে যখন বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন চলছে।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সাকেত গোখলে একটি টুইটে লিখেছেন যে, সরকার "নারীদের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের আসল এজেন্ডা বা উদ্দেশ্য, অর্থাৎ আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াকে জোরপূর্বক চাপিয়ে দিচ্ছে"।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার দলের মোট সংসদ সদস্যদের ৩৯ শতাংশই নারী।
"২০২৩ সালে যখন বিলটি পাশ হয়েছিল, তখন বিরোধী দলগুলো সংরক্ষণের অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছিল; কিন্তু আমাদের সেই দাবিগুলো উপেক্ষা করা হয়েছিল," তিনি টুইটারে লিখেছেন।
"হঠাৎ করে নিয়ে আসা এই 'সীমানা পুনর্নির্ধারণ'-এর ধারণাটি জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা অসম্ভব, কারণ এর কোনো ভিত্তিই নেই"।
মঙ্গলবার দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বচ্ছতার অধিকারকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজও একই সুরে কথা বলেছেন।
"২০২৩ সালে যখন এই বিলটি (নারী শক্তি বন্দনা অধিনিয়ম) পাশ হয়েছিল, তখন বিভিন্ন নারী সংগঠন সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল, এর বাস্তবায়ন বিলম্বিত করার এবং এটিকে আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের সাথে যুক্ত করার পেছনে কী কারণ রয়েছে। কিন্তু আইনটিতে এমন একটি বিধান রাখা হয়েছিল যে, আদমশুমারি বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নারীদের জন্য কোনো সংরক্ষণ কার্যকর হবে না। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার তাদের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এখন বলছে যে, তারা এই বিষয়টিকে পরবর্তী আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। স্বচ্ছতার দাবি জানানোর অর্থ এই নয় যে, আমরা সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষণের বিপক্ষে," তিনি বলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহুল ভার্মা মন্তব্য করেছেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিজেপি হয়তো আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
"এই বিলটি (বা পদক্ষেপটি) তাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা এনে দেবে," ভার্মা বলেন।
তিনি আরও যোগ করেন, "এমনকি যদি এই পদক্ষেপের ফলে খুব সামান্য পার্থক্যও তৈরি হয়, যেমন নারীদের ভোটের ১০ শতাংশও যদি তাদের দিকে ঝুঁকে আসে, তবে সেটাই তাদের জন্য বিশাল এক সুবিধা হিসেবে গণ্য হবে"।
তার মতে, "যখন মাত্র ৩-৪ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়, তখন আপনি যদি বাড়তি ১-২ শতাংশ ভোটও নিজের ঝুলিতে পুরতে সক্ষম হন, তবে তা জয়ের পাল্লাকে পুরোপুরি আপনার দিকেই ঝুঁকিয়ে দেয়। এটি অনেকটা- গেম, সেট, ম্যাচ।"