আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পেতে দেরি হচ্ছে কেন?
- Author, আবুল কালাম আজাদ
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
এবছর এপ্রিল মাসে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পর সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে- এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বাস্তবতা হলো, সেপ্টেম্বরে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং এ বছরেও পাওয়া যাবে কি না সেই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এর কারণ পারমাণবিক চুল্লির একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এখনো উত্তীর্ণ হয়নি।
রূপপুরে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করতে জটিলতা কোথায়- এ প্রশ্নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক চুল্লির পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ নামে একটি যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
রূপপুর প্রথম ইউনিটে দুটি সেফটি ভালভ কাজ করছে না বলেও জানা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "রূপপুরে ভালভের এই জটিলতার বিষয়টি ছিল অপ্রত্যাশিত। এটাকে বলা হয় পিওআরবি ভালব। এইটা আমাদের প্রবলেমটা করছে। আমাদের বিজ্ঞানী ও রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন। রোসাটমের চিফ ডিজাইনারও এখানে এসেছেন।"
"দুটো ভালব দেখা যাচ্ছে কাজ করছে না। এটাকে খুলতে গিয়ে দেখা যায় প্রবলেম আছে। এটা রিপেয়ার করে যখন লাগায়, দেখা যায় কাজ করছে না। এখানে টেম্পারেচার হয়তো প্রায় ২৮০-৩০০ ডিগ্রির তামপাত্রা হয়ে যায়। তারপরে প্রেসার ১৮ এর উপরে গেলে অটোমেটিক ভালবটা খুলে যায়। কিন্তু ভালবটা খুলছে না। এই টেস্টটা বার বার করার পরেও সাকসেসফুল হতে পারি নাই।"
সেফটি ভালভ কেন গুরুত্বপূর্ণ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে যন্ত্রাংশের পরীক্ষা থেকে জটিলতা ও উৎপাদন বিলম্ব হচ্ছে, সেটি মূলত দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের একটি সয়ংক্রিয় ব্যবস্থার অংশ।
কারিগরি ভাষায় এটি পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ বা প্রেশারাইজার সেফটি রিলিফ ভালভ নামে পরিচিত।
সেফটি রিলিফ ভালভ চুল্লিতে প্রেশারাইজারের উপরের অংশে স্থাপন করা থাকে। এগুলোর প্রধান কাজ হলো চুল্লির প্রাথমিক শীতলীকরণ ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রযুক্তিতে পারমাণবিক চুল্লির নির্দিষ্ট তাপ ও চাপ বজায় রাখতে এই ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি চাপ নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেড়ে যায়, তাহলে ভালভগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায় এবং উচ্চচাপের বাষ্প একটি রিলিফ ট্যাংকে ছেড়ে দেয়।
চাপ আবার নিরাপদ মাত্রায় নেমে এলে ভালভগুলো বন্ধ হয়ে বাষ্পের নির্গমন বন্ধ করে দেয়। এর ফলে প্রাথমিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা আবার আবদ্ধ অবস্থায় ফিরে আসে।
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরীক্ষা নীরিক্ষার সময় এরকম দুটি ভালভ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করছে না।
"সেফটি ভালব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে রিয়্যাক্টরের ভেতরে তাপামাত্রা এবং পানির ফ্লো নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সেই কারণে প্রেসার সেইফটি ভালব যদি ঠিকমতো কাজ না করে তাহলে কিন্তু বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটা রিয়্যাক্টর সেইফটি সিস্টেমের একটা হার্ট," বিবিসি বাংলাকে বলেন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
ড. শফিকুল ইসলাম রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অগ্রগতি শুরু থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে কাজ করেন।
তিনি বলেন, এটি কাজ না করলে চুল্লিতে তাপ ও চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
এই ভালভের গুরুত্ব বোঝাতে ঐতিহাসিক উদাহরণ হলো, ১৯৭৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের থ্রি মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনা। ওই দুর্ঘটনায় একটি পিওআরভি খোলা অবস্থায় আটকে যায় এবং এর মাধ্যমে প্রাথমিক কুল্যান্ট বের হতে থাকে। কিন্তু দুর্ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে অপারেটররা ভালভটির প্রকৃত অবস্থার বিষয়ে অবগত ছিলেন না।
ড. ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা আরও বাড়ানোর জন্য ভিভিআর-১২০০ মডেলের ডিজাইনে তিনটি স্বতন্ত্র ভালভ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রধান ভালভ হিসেবে কাজ করে, আর অপর দুটি অতিরিক্ত ও বিকল্প সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
ফলে কোনো একটি সুরক্ষা ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিলে অন্য ভালভগুলো অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে পারে।
সেইফটি ভালব ওয়াটার ফ্লো নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে তাপ চাপের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। প্রেসারাইজার চাপটাকে সবসময় স্থির রাখার চেষ্টা করে। কমে গেলে বৃদ্ধি করে এবং বেড়ে গেলে কমিয়ে ফেলে।
এটা নিয়ন্ত্রণ হয় পানির প্রবাহের মাধ্যমে। পানির সঠিক প্রবাহ মেইনটেইন করার জন্য প্রেসার রিলিফ ভালব কাজটা করে।
"কারণ পানির ফ্লো কম বা বেশি হলে এটা ইফেক্ট করবে। যখন বেশি চাপ বা স্টিম তৈরি হয়ে গেলে সেটা বাইপাস করতে হয় যেটি তখন ভালবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হয়। এটা সয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার কথা। সেই কাজটা অটোমটিক না হলে পরীক্ষার অন্যান্য ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়।"
সমাধান কীভাবে হবে
সেফটি ভালবের এই সমস্যা সমাধান করে পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেই পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। বিদ্যমান ভালভগুলো কাজ না করলে শেষ পর্যন্ত নতুন করে প্রস্তুত করে আনার প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানানো হচ্ছে।
এই পরীক্ষায় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হলে রেগুলেটরি অথরিটি অর্থাৎ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর ছাড়পত্র বা অনুমোদন দেবে না বলে জানিয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, যন্ত্রের ত্রুটি ধরা পড়লে আরেকটা বিকল্প যন্ত্র্র আনতে হয়। সেটা নিয়ে আসা সময়সাপেক্ষ। চাইলেই পাওয়া যায় না। এগুলো অর্ডার করে বিশেষ ডিজাইনের হয়। তাই নির্দিষ্ট করে কোনো দিনক্ষণ বলা যাবে না। অনুমান নির্ভর দিনক্ষণ বলা যায়, কিন্তু এটি নির্ভর করবে চূড়ান্তভাবে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার উপর।
"পাইলট অপারেটেড রিলিফ ভালব বা পিওআরভি বলা হয়। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভালব। এটা সমাধান না করলে সামনে এগুনো যাবে না। এটা তো রিয়্যাক্টরের ভেতরের বিষয়। বাইরে আরো অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি আছে। এটা যদি রেডি থাকে বা স্পেসিফিক ডিজাইন অনুযায়ী সহসা নিয়ে আসতে পারে তাহলে হয়তো খুব দ্রুত এটা সমাধান করতে পারে। বানিয়ে নতুন করে এনে লাগানোর প্রয়োজন হলে সময় সাপেক্ষ হবে।"
রেগুলেটরি বডি এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফলাফল দেখে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স দিতে হবে। তাদেরও অনেক রিভিউ করতে সময় লাগবে। বাংলাদেশে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এই লাইসেন্স দেবে।
ড. ইসলাম বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ দিয়ে যাচাই করে ছাড়পত্র বা লাইসেন্স দেওয়া হয়। শতভাগ নিশ্চয়তা ছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার সুযোগ নেই।
পারমাণবিক কেন্দ্রে ফুয়েল লোড একটা মাইলস্টোন এর পরের ধাপ হলো ক্রিটিকালিটি টেস্ট। শত শত কঠিন জটিল পরীক্ষা নীরিক্ষা সম্পন্ন করে শতভাগ নিশ্চিত করেই পরের ধাপে অগ্রসর হতে হবে।
এখানে তাড়াহুড়া করার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক মাণদণ্ড অনুযায়ী এই পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যেতে একবছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
"জেনারেটর, টারবাইন, গ্রিড সব সিনক্রোনাইজ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয় আছে। হঠাৎ করে যদি পাওয়ার চলে যায় সেটাও পরীক্ষা করার বিষয় আছে যে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার সিস্টেমগুলো ধাপগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না। এখানে শত শত টেস্ট আমাদের সম্পন্ন করতে হয় এবং হবে। এটা অনেক কঠিন একটা বিষয়। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে অনেক সময় ভুল ত্রুটি ধরা পড়ে। সেটা সহজেই সমাধান করা যায় না। কারণ এটা বিশেষ একটি প্রকৌশল বিদ্যা," ড. শফিকুল ইসলাম বলেন।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সংস্থার পক্ষে বলা হয় তারা সবকিছু নিবিঢ় পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি এবং কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে সেটা কীভাবে সমাধান হচ্ছে সেগুলো সব দেখে নিশ্চিত হয়েই লাইসেন্স দেওয়া হবে।
পরমাণু বিজ্ঞানীরা বলছেন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডিজাইনে আরো বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়েছে। রাশিয়া এবং বেলারুশে এর রেফারেন্স প্ল্যান্ট আছে। সুতরাং এর সম্ভাব্য সমস্যা কী হবে এবং তার সমাধান কী এগুলো ঠিকাদার এবং বাস্তবায়নকারী পক্ষের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমেই এগুতে হবে।
জ্বালানি লোডিংয়ের পরবর্তী ধাপে 'নিউক্লিয়ার পাওয়ার ইউনিট কমিশনিং শিডিউল' চুক্তি থাকা দরকার। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার এই লিখিত চুক্তিতে কবে কোন পরীক্ষাটি হবে, কীভাবে হবে, সমস্যা হলে তার সমাধান কী এসব বিষয় লিখিত ডকুমেন্ট থাকে। বিলম্ব হলে তার জন্য ঠিকাদার কী ক্ষতিপূরণ দেবে সেটিও উল্লেখ থাকা দরকার বলে মনে করেন পারমাণু বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে এরকম কোনো চুক্তি আছে কি না বিজ্ঞান মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।
"মেইন অ্যাগ্রিমেন্ট যেটা ওদের, এটা চালিয়ে দিতে হবে। রোসাটমের সঙ্গে চুক্তি হলো আমাদের রূপপুর নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টটাকে চালাতে হবে। এটা হলো হোল বটম লাইন। এখন স্পেয়ার লাগুগ, রিপেয়ার লাগুক- এটাতো রোসাটমের দায়িত্ব এটা চালিয়ে আমাদের হাতে দিতে হবে। এটা থেকে সরে যাওয়ার কোনো স্কোপ নাই ওদের।"
বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে
দেশে বিদ্যুতের সংকটের মধ্যে রূপপুর পরীক্ষামূলক চালু হলেও একটা সাশ্রয় এবং স্বস্তি পাওয়া যেত। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই একটার পর একটা ধাপ অতিক্রম করতে হয়।
বর্তমানে যে পর্যায়ে আছে এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধাপে যেতে আরো বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ও জানাচ্ছে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখন বলা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞান মন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেন, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট সেইফটি সিকিউরিটি হাইয়েস্ট প্রায়োরিট।
মন্ত্রী বলেন, "তাড়াহুড়া করে কিছু করার চেষ্টা করার কোনো স্কোপ নাই। সুতরাং সমস্ত সেইফটি সিকিউরিটিকে আমলে নিয়ে হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি দিয়ে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার এবং রাশিয়ান ইঞ্জিনিয়াররা চেষ্টা করছে। আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। একটু দেরি হতে পারে।"
"সুনির্দিষ্ট দিন বলতে সাহস পাচ্ছি না। এই যে ছোটখাট প্রবলেমগুলো হচ্ছে, এটা কিন্তু এক্সপেক্টেড না। আমরা ভাবি নাই এগুলো আসবে। যেহেতু এগুলো এসেছে। দেয়ার আর সো মেনি স্টেজ। যেমন বি বিওয়ান তারপর ক্রিটিক্যাল টেস্ট আছে। কারণ ক্রিটিক্যাল টেস্টে গিয়ে আবার কী হয়। সুতরাং এই জিনিসগুলো আমরা টেস্ট না করার পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারছি না কী প্রবলেম হতে পারে। এইজন্যই টাইমফ্রেমটা এখন আর দিচ্ছি না আমরা। বাট চেষ্টা হচ্ছে।"
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আমরা একসাথে বসে কাজ করতেছি। আমরা প্রেসারেও রাখছি আবার আমাদের মাথার মধ্যে সেইফটি সিকিউরিটিটা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।
"এত বড় একটা প্রজেক্ট। আমি যখন ওয়াশিংটনে বললাল আমাদের এই প্রজেক্ট ২০১৭ সালে শুরু করেছি। আমিতো ফিউয়েল লোডিং শুরু করে দিয়েছি আমাকে দুয়েকজন বলে আরে এটাতো কমপক্ষে দশ বছর লাগে। আমরা কিন্তু নয় বছরের মাথায় শুরু করে দিয়েছি। ইটস নট দ্যাট আমরা বেশি সময় নিয়েছি। এটা কিন্তু আমার এক্সপেরিয়েন্স ছিল না।"
পর্যবেক্ষকরাও বলছেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলাটা অনুমান নির্ভর হবে। পুরোটাই নির্ভর করছে সফলভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার উপর।
ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না করেই যদি আগাম ডেট দেয় এই মাসে ওই মাসে আসবে এটা আসলে টিকবে না। কারণ কারিগরি দিকটা পুরোপুরি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সব চেক না করা পর্যন্ত বলা যাবে না যে নির্দিষ্ট করে এই মাসে উৎপাদন শুরু করতে পারবো।
"ধাপে ধাপে অনেক কঠিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এগুলো সম্পন্ন করে দেখা লাগবে। এটা এখনো নিশ্চয়তা দিয়ে কেউ বলতে পারবে না কবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে পারবে।"
প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে রাশিয়ার রোসাটম এবং বাংলাদেমে পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে জানা যাচ্ছে, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার পর ইতোমধ্যে ৯০টির বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী জ্বালানি লোডিংয়ের পর ধাপে ধাপে পরীক্ষা চালিয়ে সাধারণত পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ গ্রিডে দিতে দশ মাসের মত সময় লাগে।
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে গণমাধ্যম থেকে কথা বলতে চাইলে মন্ত্রী ছাড়া প্রকল্প এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব কারো কাছ থেকে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটার ব্যাপারে একজন মুখপাত্র রাখা যেতে পারতো, সেটা হয়নি।
ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, যদি একটা মিডিয়া সেল থাকতো। দায়িত্বশীল কেউ যদি নিয়মিত মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতো বা রেগুলার ওয়েবসাইটে আপডেট থাকতো তাহলে মানুষ বুঝতো। এটা কিন্তু শুরু থেকেই করেনি, এখনো নাই।
"এটা কবে চালু হবে, হবে কি না, কী ধরনের জটিলতা বিরাজ করছে বর্তমানে- এরকম যতই বিলম্ব হয় ততাই মানুষের মধ্যে উদ্বিগ্নতা বাড়ে, আগ্রহ বাড়ে, সমালোচনা হয়, প্রশ্ন তৈরি হয়। এটা থাকবেই। যদি চালু হয় তাহলে মানুষের প্রশ্ন কমে যাবে। আস্থা তৈরি হবে। চালু হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।"
রাশিয়ার ঋণ ও কারিগরি সহয়তায় রূপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে বাংলাদেশ।
রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরু করার কথা ছিল। করোনা ভাইরাস মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জটিলতায় এর বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়।
এছাড়া ৫ই অগাস্ট অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রূপপুর বাস্তবায়নে এক ধরনের অবহেলা ছিল বলে সমালোচনা আছে।