ট্রাম্প কি ইরানের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন?

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, ড্যানিয়েল বুশ
- Role, ওয়াশিংটন সংবাদদাতা
- Reporting from, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সফররত
- Author, ম্যাক্স মাৎজা
- Published
- পড়ার সময়: ৪ মিনিট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধ সংক্রান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে সমাধানে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বিবিসির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি চুক্তি স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছেন কি না। জবাবে ভ্যান্স বলেন, দুই পক্ষ "কখন বা আদৌ" কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করবে - এটি বলা এখনো বলা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হতে পারে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানান, ট্রাম্প ও ইরানের নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় থেকে দুই দেশ একটি চুক্তির কাঠামোয় সম্মত হয়েছে।
তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত হয়নি।

ছবির উৎস, Reuters
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কথা বলতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, আলোচকরা "ভাষাগত কয়েকটি বিষয় নিয়ে বার বার আলোচনা" করছেন, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম "সমৃদ্ধকরণ" প্রসঙ্গও রয়েছে।
সমঝোতার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাইনি, কিন্তু আমরা খুব কাছাকাছি এবং আমরা কাজ চালিয়ে যাব"।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং তাদের বিদ্যমান মজুদের নিষ্পত্তি করতে হবে, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান্স আশাবাদী সুরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে ইরান "সৎ উদ্দেশ্যে" আলোচনা করছে।
৮ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুই পক্ষ চুক্তির কাছাকাছি এবং আলোচনা এগোচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্র দেশগুলো, যুদ্ধবিরোধী ডেমোক্র্যাটরা এবং কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান সদস্যও এর মধ্যে রয়েছেন, যারা সংঘাত কতদিন চলবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বৃহস্পতিবারের পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদনগুলো দেখিয়েছে যে আলোচনা এখনো পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে।
দুই দেশই একে অপরের দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে খুব কম তথ্য দিয়েছে, ফলে বাস্তবে এই দুই পক্ষ কতটা কাছাকাছি অবস্থান করছে - তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্প ও অন্যান্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, 'অপশন বি', অর্থাৎ আবার সামরিক অভিযান এখনো বিবেচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা আরও জটিল ও প্রযুক্তিগত বিষয়, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের অবশিষ্ট উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে আলোচনা করতে পারবে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেটি নিজেদের দখলে নিতে পারে, অথবা ইরানের সঙ্গে মিলিয়ে সেখানেই কিংবা তৃতীয় কোনো স্থানে তা হ্রাস করতে পারে।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, U.S. Navy via Getty Images
বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন বলছে, সম্ভাব্য এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে 'নিরবচ্ছিন্ন' যাতায়াতের অনুমতি থাকতে পারে এবং ইরানকে ৩০ দিনের মধ্যে এই সংকীর্ণ নৌপথ থেকে মাইন অপসারণ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেবে, যাতে ইরান আবার তেল বিক্রি শুরু করতে পারে।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস, যারা বৃহস্পতিবার প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতার খবর দেয়, জানিয়েছে ট্রাম্পকে প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন দেননি এবং বিবেচনার জন্য কয়েক দিন সময় নেবেন।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের অনানুষ্ঠানিক খসড়ার বিভিন্ন দিক প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনটিতে ওয়াশিংটনের আরোপিত ইরানি বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, 'ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল' থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেসামরিক চলাচল পুনরুদ্ধারের কথা উল্লেখ ছিল যেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমান যুক্ত থাকবে।
হোয়াইট হাউস এই তথাকথিত খসড়াকে "সম্পূর্ণ মনগড়া" বলে আখ্যা দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয় এবং এই পথ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট কোনো চুক্তি হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্টের আগে কোনো বিষয়ে এগিয়ে কথা বলা সবসময়ই ভুল এবং শেষ সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টই নেবেন"।
ইরানের জন্য সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে 'পুনর্গঠন' অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই অন্য দিক নিয়ে কথা বলা যাবে না"।
এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন মার্কিন হামলার পর বৃহস্পতিবার তারা অঞ্চলের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বাহিনী একটি মার্কিন বিমান, সম্ভবত ড্রোন, ভূপাতিত করেছে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি নাকচ করে সামাজিক মাধ্যমে বলেছে, "কোনো মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সকল আকাশযান হিসাবমতোই আছে"।
প্রতিবেদনে সহায়তা করেছেন বার্নড ডেবুসম্যান জুনিয়র








