'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামে ভাইরাল মহিষটি কিনে নিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংরক্ষণ করা হতে পারে চিড়িয়াখানায়

একটি গোলাপি রংয়ের মহিষের ছবি তুলছেন কয়েকজন, আরো কয়েকজন বাঁশের বেড়ার অন্যপাশে দাঁড়িয়ে দেখছেন। মহিষটির গলায় দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে আছেন একজন
ছবির ক্যাপশান, মহিষটিকে নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছিল
Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার আগে আলোচনায় আসা একটি মহিষ, যেটি ভাইরাল হয়েছিল 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামে, সেটি এখন সরকারি হেফাজতে। মহিষটিকে ঈদে কোরবানি দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এ বছর ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বাজারে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় এই অ্যালবিনো মহিষটি। সামাজিক মাধ্যমসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও মহিষটিকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখা গেছে।

সম্প্রতি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহিষটিকে খামার থেকে নিজের বাড়িতেও নিয়ে যান প্রাণীটির মালিক।

কিন্তু ঈদের একদিন আগেই জানা গেল যে, মহিষটিকে কোরবানি না করে বরং সংরক্ষণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আর এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বুধবার মহিষটিকে তার মালিকের বাসা থেকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের এই মহিষটিকে নিজেই কিনে নেওয়ার কথা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলছেন, বিরল প্রজাতির এই মহিষটিকে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্প নামে ভাইরাল হওয়া মহিষটি বিরল প্রজাতির। কোরবানির ঈদে আগে এটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, কোরবানির সময় বিশৃঙ্খলা হতে পারে- এই চিন্তা থেকে মহিষটি আমি কিনে নিয়েছি। এটি এখন খামারে আছে, পরবর্তীতে চিড়িয়াখানায় রাখা হতে পারে।"

মহিষটিকে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানা গেছে
ছবির ক্যাপশান, মহিষটিকে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানা গেছে

কোরবানি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত

নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা বিবিসি বাংলাকে এর আগে জানিয়েছিলেন, তার ছোট ভাই মহিষটির চুল ও চোখের রং দেখে মজা করে নাম রাখেন 'ডোনাল্ড ট্রাম্প'। খামার নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করা হয় যেখানে এই মহিষটিও ছিল। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই মহিষটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে মহিষটিকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা একে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়।

রোজার ঈদের পরই মহিষটি কিনে নেন কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকার বাসিন্দা ফরিদুজ্জামান। তিন দিন আগেই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজের বাড়িতে মহিষটিকে নিয়ে যান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে বুধবার বিকেলে মহিষটির মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা থেকে প্রাণীটিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ বলছে, সরকারি নির্দেশনার কথা জানিয়ে মহিষটিকে থানায় নিয়ে আসার অনুরোধ করা হলে মালিক বিষয়টিতে সম্মতি জানান।

নারায়ণগঞ্জের একটি খামার থেকে বিরল প্রজাতির মহিষটি বিক্রি করা হয়
ছবির ক্যাপশান, নারায়ণগঞ্জের একটি খামার থেকে বিরল প্রজাতির মহিষটি বিক্রি করা হয়
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ প্রধানের কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে মহিষটিকে উদ্ধার করা হয়।

বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, "আমাদের এখান থেকে গত সোমবারই কেরানীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুরুতে নারায়ণগঞ্জেই আবার ফেরত আনার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। সম্ভবত চিড়িয়াখানায় রাখা হতে পারে মহিষটিকে।"

জানা গেছে, উদ্ধার করার পর মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে একটি খামারে প্রাণীটিকে সংরক্ষণ করার কথা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মহিষটিকে নিজেই কিনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলছেন, বিরল প্রজাতির হওয়ায় মহিষটিকে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মহিষটি কোরবানি নিয়ে যেন বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয় সেই বিষয়টিও এক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন, প্রায় ১০ মাস আগে রাজশাহীর একটি হাট থেকে তারা এই আলবিনো মহিষটি সংগ্রহ করেন। তাদের খামারে আরো ছয়টি আলবিনো মহিষ রয়েছে বলেও তিনি জানান।