‌পত্রিকা: 'দুর্যোগের পূর্বাভাস ছিল, মাঠে কার্যকর প্রস্তুতি ছিল না'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যায় ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে; প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রায় সব পত্রিকায় আজ বৃষ্টি ও বন্যার দুর্ভোগ সংক্রান্ত খবর প্রাধান্য পেয়েছে।

খবরে বলা হচ্ছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধস হতে পারে- এমন সতর্কবার্তা গত পহেলা জুলাই থেকেই দেওয়া হচ্ছিল।

এমনকি এল নিনোর প্রভাবে বড় বন্যার শঙ্কার কথাও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জানা। তবে সেই পূর্বাভাস সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

আগাম ত্রাণসামগ্রী মজুত, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা, চিকিৎসা দল সক্রিয় করা কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রস্তুতি; কোনোটিই প্রয়োজনীয় মাত্রায় নেওয়া হয়েছে- এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফলে টানা অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও পাহাড়ধস কয়েক দিনের মধ্যেই মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের বন্যা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়; আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি, সমন্বয়ের দুর্বলতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যর্থতা এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্বের কারণেই ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে।

'পানিতে ডোবে ঢাকার ১২৯ স্থান' আজকের পত্রিকার শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর অন্তত ১২৯টি স্থানে জলাবদ্ধতায় ভুগেছে মানুষ।

গত শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে তলিয়েছে নগরের নিচু এলাকা। অনেক সড়কের পাশাপাশি কিছু প্রধান সড়কে জমে হাঁটু থেকে কোমরপানি। কোনো কোনো এলাকায় বাসাবাড়িতেও ঢুকেছে পানি ।

রোববারের পর গতকাল সোমবারও জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবারও বৃষ্টি থাকবে। ভারী বৃষ্টি হলে আজও কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।

অথচ রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১০ বছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসা খরচ করেছে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি । এদিকে অচল হয়ে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৭ ব্লুইসগেটের সব কটি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত দুদিন সরেজমিনে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে ১২৯ স্থানে জলাবদ্ধতার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৭৯টি এবং ডিএসসিসি এলাকায় ৫০টি স্থান রয়েছে।

'ড্রেনেজ বিপর্যয়ে ডুবছে ঢাকা' দেশ রূপান্তরের শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, ভারী বৃষ্টিতে টানা দুই দিন চরম দুর্বিপাকে পড়তে হয়েছে রাজধানীবাসীকে। বিশেষ করে গত রবিবার দিনভর কার্যত অচল ছিল ঢাকা নগরী। বৃষ্টি কমে আসার পরও তীব্র জলাবদ্ধতা নগরজীবনকে থমকে দেয়।

রাজধানীর এমন বেহাল নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড ক্ষোভ। নগর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্তরা আছেন তোপের মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থাই সংকটের মূল কারণ। বর্জ্য, পলিথিন ও দখলের কারণে ড্রেনেজ লাইনের অনেক অংশ কার্যকারিতা হারিয়েছে।

কোথাও সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানি নির্গমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কেবল ভারী বৃষ্টি নয়, কোথাও কোথাও সামান্য বর্ষণেও ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

মাঝারি বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা। আশপাশের সড়কে কোমর সমান পানি জমে যায়। থমকে যায় ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের জীবিকার চাকা। গত রবিবার সারাদিন বন্ধ ছিল এই মার্কেট।

'বন্যায় বিপুল ক্ষতি, মৃত্যু ৫৪' কালের কণ্ঠের শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা, সিলেটের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার ছাড়াও আরো কিছু জেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বানের পানি কমতে শুরু করেছে এসব জেলায়।

বানের পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বন্যার ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোয় ধীরে ধীরে ক্ষতির দগদগে চিহ্ন বের হচ্ছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতি নিয়ে আছে দুশ্চিন্তায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল সোমবার তিন জেলায় তিনটি নদীর পানি চার পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে বইছিল। এদিকে বন্যার পানি কমতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা ছাড়াও সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত সাত জেলায় বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তার মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামেই প্রাণ হারিয়েছে ৪৪ জন।

খবরে বলা হচ্ছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে পানিতে ভিজেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত টন আমদানি পণ্য, যা বাজারমূল্য শতকোটি টাকা ছাড়াবে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

পণ্য রাখার জন্য পর্যাপ্ত গুদাম না থাকা ও গত বছরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থায়ী কার্গো টার্মিনাল এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ে অব্যবস্থাপনা, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতাও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ঠেলাঠেলির কারণে শত শত টন পণ্য কার্গো ভিলেজে পড়ে বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে।

বিমান দায় চাপায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ওপর আর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দায় চাপায় বিমানের ওপর।

খবরে বলা হচ্ছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা ঘনীভূত হয়েছে। টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইতোমধ্যে চারটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে তিস্তার পানিও গত সন্ধ্যায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণে নগর ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুমিল্লায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় গতকাল এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় ২৭ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ত্রিপুরার পাহাড়ি ঢলের পানিতে সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম 'Heavy monsoon rain affects 5 lakh farmers' অর্থাৎ 'ভারী বৃষ্টিতে ৫ লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত'।

খবরে বলা হচ্ছে, এবারের আমন মৌসুম নিয়ে বড় পরিকল্পনা ছিল প্রসাদ রায়ের। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খালাশি বুনিয়া গ্রামের এই কৃষক গত সপ্তাহেই ১০ কাঠা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ১৭ বিঘা জমিতে ধান রোপণের জন্য পর্যাপ্ত চারা উৎপাদন করা।

কিন্তু টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বীজতলাটি পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ভালো ফলনের আশাও ভেসে গেছে।

বারবার চেষ্টা করেও পাম্প ব্যবহার করে তিনি পানি নিষ্কাশন করতে পারেননি। চারাগাছগুলো ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই।

প্রসাদের মতো, দেশজুড়ে হাজার হাজার কৃষক ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটসহ ৪৩টি জেলা বৃষ্টির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫ লাখেরও বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ১৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিউ এইজের শিরোনাম 'IMF LOAN NEGOTIATION: Govt plans no fresh power price hike' অর্থাৎ 'আইএমএফের সঙ্গে ঋণ নিয়ে আলোচনা: বিদ্যুতের দাম আপাতত বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের'।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা সরকারের নেই। ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুতের দাম পুনর্বিন্যাসের কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না—আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য-অনুসন্ধানী দল এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের এ কথা জানানো হয়।

গতকাল সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি বিভাগ ও অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব বিষয়ে জানতে চায়তারা। ৪-৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রস্তাবিত নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার আগে একটি অগ্রবর্তী দল হিসেবে ঢাকা সফর করছে আইএমএফের প্রতিনিধিদলটি।

বিকেলে তাদরে সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভর্তুকি, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার সংক্রান্ত সরকারি কৌশল পর্যায়ক্রমে ও যৌক্তিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

'রেলওয়ের আনিসুরপ্রীতি' প্রথম আলোর শিরোনাম।

খবরে বলা হচ্ছে, ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের ভেতরে দোকান করার জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আনিসুর রহমান ওরফে টিপু নামের এক ঠিকাদারকে। কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়া তিনি রেলস্টেশনের জায়গা পেয়েছেন, যেখানে কখনোই কাউকে দোকান করতে দেওয়া হয়নি। দোকানের জায়গাটি স্টেশনের নকশাবহির্ভূত।

শুধু কমলাপুরে দোকান নয়, রেলের একের পর এক ঠিকাদারি কাজ পাচ্ছেন আনিসুর রহমান। রেলওয়ের ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রক হিসেবে তার পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

নিয়েছেন শৌচাগার বা টয়লেট ইজারা। অন্যদিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পার্কিং এলাকা ইজারা পেতে যাচ্ছে তার স্ত্রীর নামে থাকা প্রতিষ্ঠান।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, আনিসুর রহমান নিজেকে কোনো কোনো মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বন্ধু বলে পরিচয় দেন। ব্যবহার করেন রাজনৈতিক প্রভাব।

যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যে জায়গায় কাউকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয় না, সেখানে আনিসুর রহমান কীভাবে পেলেন?

খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারের ইতিহাসে গত দেড় দশকে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগসাজশের কারণে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ব্যক্তিদের একজন চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত, মামলা ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড এবং পুঁজিবাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নাফিজ সরাফাত এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করে।

একাধিক মামলা, সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কোনো মামলায় দণ্ডিত হননি। বরং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারো দেশের আর্থিক খাতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খবরে বলা হচ্ছে, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে তাদের বড় একটি অংশই পড়াশোনা শেষ করে আর দেশে ফিরছে না।

উন্নত কর্মপরিবেশ, গবেষণার বিস্তৃত সুযোগ, উচ্চ বেতন, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ এবং উন্নতমানের জীবন আকর্ষণে তারা বিদেশেই ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। ফলে দেশের তরুণ মেধাবীদের আলোয় আলোকিত হচ্ছে বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, হাসপাতাল, প্রযুক্তিসহ নানা প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে দেশে সীমিত গবেষণা, দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান সংকট ও অনিরাপদ পরিবেশ এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়নের ক্ষেত্র এখনো সেভাবে তৈরি হয়নি। এসব সীমাবদ্ধতায় দেশে ফেরার আগ্রহ কমে যাচ্ছে তাদের। এতে উচ্চশিক্ষিত মানবসম্পদের একটি বড় অংশ বিদেশে থেকে যাওয়ায় দেশে মেধা পাচারের আশঙ্কা আরও প্রকট হচ্ছে।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫২ হাজারে পৌঁছেছে।